এর চেয়ে পরিপূর্ণ সমাপ্তি কি হতো পারত রিয়াল মাদ্রিদের? মৌসুমের শেষটা জয় দিয়ে হলে সমর্থকদের হয়তো ভালো লাগত। কিন্তু সে সমাপ্তি এ মৌসুমে দলটির অবস্থা ভুল বোঝাতে পারত। সেখানে নিজেদের মাঠে নিজেদের দর্শকের সামনে রিয়াল বেতিসের কাছে ২-০ ব্যবধানের হারে মৌসুমের পরিপূর্ণ বিজ্ঞাপণ দিয়ে দিল রিয়াল।

এ মৌসুম বাদ দিয়ে আগামী মৌসুমের চিন্তা নাকি করছেন না জিনেদিন জিদান। ম্যাচের আগে অন্তত সেটাই বলেছিলেন, ম্যাচে রিয়াল যা দেখিয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করাটাই শ্রেয় মনে হতে পারে। পুরো ম্যাচে সেতিয়েনের বেতিসের সামনে নতজানু হয়েছিল রিয়াল।

জিদান যতই বলুক আগামী মৌসুমের চিন্তা করছেন না, তাঁর দল গঠন কিন্তু উল্টোটাই বলছে। ম্যাচ শেষে হারের পরও দর্শকদের করতালি পেয়েছেন নাভাস। দলের বাকি সবার ভয়ংকর পারফরম্যান্সের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন কেইলর। বেশ কয়েকটি সেভ না করলে রিয়াল আজ ৪/৫ গোলে হারতে পারত। দর্শকের করতালি তাই পেতেই পারেন, কিন্তু সেটার অভিবাদনটা নাভাস যেভাবে নিলেন তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এ ম্যাচকেই শেষ বলে ধরে নিয়েছেন তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এই গোলরক্ষক।

আরও খবর  ট্রফি জিতে দেশে ফিরে কেন কথা বললেন না মাশরাফি?

নাভাস যে ভালোবাসা মেখে বিদায় নেবেন সেটা জানা ছিল। গ্যারেথ বেলেরও আজ রিয়ালের হয়ে শেষ ম্যাচ বলেই মনে করা হচ্ছে। সে ম্যাচে বেলকে শেষবারের মতো ভালোবাসা দেয় কি না বার্নাব্যু, সেটা জানার কৌতূহল ছিল। কিন্তু মূল একাদশে তো দূরে থাক, বদলি হিসেবেও বেলকে নামাননি জিদান। বেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ থাকলে, সেটা আজ উবে গেছে।

বেল না হয় আগামী মৌসুমে থাকছেন না, কিন্তু মাঠে যারা ছিলেন তারা অধিকাংশই আগামী মৌসুমে থাকবেন। আর আজ তারা যেমন খেলেছেন, তাতে দুশ্চিন্তা হতেই পারে সমর্থকদের। দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট ছাড়া আর কোনো সুযোগই সৃষ্টি করতে পারেনি দলটি। বেনজেমা, ব্রাহিম, ভিনিসিয়ুস, অ্যাসেনসিও, ইসকো বা ভাসকেজ—এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিপক্ষকে চিন্তায় ফেলতে পারেননি। বরং ১৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে অনন্য এক অর্জন করেছে বেতিস। এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে হারিয়েছে দলটি। এমন একটি দল তবু কেন লিগে দশ নম্বরে সেটাই বরং প্রশ্ন জাগায় মনে।

আরও খবর  বিপিএলের পূর্নাঙ্গ সূচি প্রকাশ

ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য কিছুটা হলেও প্রাধান্য নিয়ে শুরু করেছিল রিয়াল। কিন্তু পুরো মৌসুমের সেই পুরোনো রোগ মাথাচাড়া দিয়েছে আজও। প্রতিপক্ষ ডি বক্সের সামনে এলেই গোলমাল পাকিয়ে ফেলছিল দলটি। বেতিস প্রথমার্ধে এর সুযোগ নিতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর সে ভুল করেনি। প্রথমে লরেন ও পরে রিয়াল একাডেমিরই সাবেক খেলোয়াড় হেসে গোল করে রিয়ালকে ডুবিয়েছেন। গোল করে হেসে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন বার্নাব্যুর দর্শকের কাছে। তবে খেলার ধরনে সে কাজটা রিয়াল খেলোয়াড়রা করলেই বেশি মানাত!