ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ছে বিএনপি ?

66
ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপি-জোট ছাড়ছেন অনেকেই। অনেকেই আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই বলছেন, ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের ভুল কৌশলের মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো দলকে। অবার অনেকেই ড. কামালকে আওয়ামী লীগের এজেন্ট বলতেও শোনা গেছে।

তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে বিএনপির ভেতরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক অলি আহমেদ বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে জোট করে রাজনৈতকিভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

আরও খবর  ভোলায় ফেইসবুক প্রতারনার মাধ্যমে একাদিক বিবাহের অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে...

ভোটের প্রায় দু’সপ্তাহ পর জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন। পাশাপাশি অপরাধী সংগঠনটির সঙ্গ ছাড়তে বিএনপিকে চাপ দেয়ার কথাও জানান তিনি।

এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি ও বিশ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা-না রাখা নিয়ে বাইরের কারও পরামর্শের প্রয়োজন নেই।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপিকে কি করতে হবে সে জন্য বাইরের কারও উপদেশ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করি না। ২০ দলীয় জোট থাাকার পর অন্য কোন জোটে যাবার প্রয়োজন ছিল না।

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বলেন, আমি তো মনে করি না, তাদের প্রেশার ক্রিয়েট করার মতো কোনো শক্তি আছে। কারণ তাদের দলীয় কোনো অবস্থান নেই। এটা যদি করতে হয় বিএনপিকে করতে হবে। বিএনপি যদি চায় জামায়াতের সঙ্গে থাকবে না, তবেই সেটা সম্ভব।

আরও খবর  বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন গোলাম মাওলা রনি

দুই জোটে থাকা- না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপিকে সময় দেয়া হয়েছে বলে জানান ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপিকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুই দিকে সংসার করা ঠিক হবে? নাকি একদিকে এসে অবস্থান পাকা করবে। আমরাও বিএনপিকে সময় দিচ্ছি, বিএনপিও চিন্তা করুক।

যে সমস্ত ব্যক্তিরা কোনো দিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে, কতদূর কি করা যাবে সে সিদ্ধান্ত বিএনপিকেই নিতে হবে বলেই মনে করেন অলি আহমেদ।

জামায়াত-বিতর্ক, নির্বাচনে ভরাডুবি আর ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ২০ দলে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানান কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এখন কাজ হলো চিন্তা করা, আত্ম-সমালোচনা করা। একটা বিপর্যয় যার জন্য ২০ দলীয় জোট বা বিএনপি মানসিকভাবে হয়ত প্রস্তুত ছিল না।

আরও খবর  বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন গোলাম মাওলা রনি

এবার কৌশলে ভুল করলে বিএনপির সামনে আরও বিপদ অপেক্ষা করছে বলেও সতর্ক করেন বিশ দলীয় জোটের শরিকরা।