বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

40
বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন শেরপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

২৫ বছরের কিছু বেশি বয়সের এই বিএনপি প্রার্থী শুধু নিজ দল নয়, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে যারা বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী।

পেশায় চিকিৎসক সানসিলা শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে। শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিএনপির এই প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ, আর দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৫ বছর বয়সী ডা. সানসিলা জেবরিন।

২০১৬ সালে এমবিবিএস পাশ করা সানসিলা জেবরিন রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক।তিনি শেরপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী। আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হতে সা সিলা এখন শেরপুর সদর উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন আর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বয়স কম হাওয়া তার আবেদনে ভোটারদের মধ্যেও বেশ সাড়া পড়ে গেছে।

শেরপুরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করতে চান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। সেই সঙ্গে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি।

আরও খবর  গুলশানে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক চলছে

ডা. প্রিয়াংকার প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপি ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনটি চারদলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়। ওই দুটি নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। তাই দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রার্থী পেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাই ডা সানসিলার নির্বাচনে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার স্থানীয় রাজনীতে পদচারণা এই প্রথম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন ড্যাবের সঙ্গে কাজ করেছি। বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বন্যার্তদের সাহায্য সহযোগিতা করেছি। এবং একটা পর্যায়ে ড্যাবের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় হলো এবং আরো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বেড়ে গেল। আব্বুর সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নিতাম। আব্বু সব সময়ই বলতেন আমার পরেই কিন্তু তুমি রাজনীতিতে আসবে। কিন্তু সেটা যে এত তাড়াতাড়ি হবে বুঝতে পারি নি। আব্বুর নামে মিথ্যা মামলা দেয়াতে তার হয়ে আমাকে লড়তে হচ্ছে। আব্বুর সাজানো মাঠটি আমি পেয়েছি। এখন আমি সেই মাঠেই লড়াই করবো।

আরও খবর  গুলশানে চলছে ২০ দলের বৈঠক, দশ মাস পর যোগ দিলেন কর্নেল অলি

ভোটের প্রচারণার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে নিরপেক্ষতার যথেষ্ট অভাব আছে। নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক জায়গায় নেই। শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। পুরনো মামলায় নতুন করে জেলে নেয়া হচ্ছে। আমাদের পোস্টার লাগাতে দেয়া হচ্ছে না। জনসভা করতে বাধা আসছে। যেটা সরকারি দলের বেলাতে হচ্ছে না। গত দুই দিন আগে আমার দলের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলমান রাজনীতি শুধু সরকারি দলের ক্ষমতায়নের জন্য। বিরোধীদের জন্য না।

ভোটারদের কাছে নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জেবরিন বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে শেরপুরে একটি মেডিকেল কলেজ তৈরি করবো। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ১টি করে ক্লিনিকের ব্যবস্থা করতে চাই। সড়ক উন্নয়ন এবং রেললাইন স্থাপনে কাজ করতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এখানে মেধা অনুযায়ী যুব সমাজ চাকরি পায় না। যেহেতু আমি তরুণ তাই যুবকদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। বেকারত্বের হার কমাতে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে চাই। আমি যেহেতু নারী তাই সমাজে নারীরা যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে এবং নিপীড়নের শিকার না হয় এ বিষয়ে কাজ করবো। নারী শিক্ষার হার এবং নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াবো। চরাঞ্চলে পল্লীবিদ্যুৎ ও স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা তৈরিতে কাজ করে যাবো।

আরও খবর  বি এন পির চুরন্ত প্রার্থী ঘোষনা আটটার পরে

শেরপুর-১ আসনে ধানের শীষ জয়ী হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে সানসিলা জেবরিন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এটা অনেক আনন্দের ব্যাপার। এ আসনে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। একজন সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে হুইপ আতিউর রহমানের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এ জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমি মনে করি, রাজনীতিতে হারজিত থাকবেই। নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে ধানের শীষের জয় হবেই।’

শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে সানসিলা জেবরিন। জেলা সদরের আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হাওয়ার কথা ছিল ছিলেন হযরত আলীর। ২০১৭ সালের দায়ের করা একটি হত্যা প্রচেষ্টার একটি মামলায় কারাগারে থাকা ডা. হযরত আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তার পরিবর্তে রাজনীতিতে সম্পূর্ণ নবীন সানসিলাকে ধানের শীষের প্রাথী করে বিএনপি। এই তরুণী লড়বেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হুইপ মো. আতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী ইলিয়াছ উদ্দিনসহ পাঁচ প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন।