ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার: অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া কোটা থাকবে না

43
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বহুল প্রত্যাশিত ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ইশতেহারে ১৪ প্রতিশ্রুতি ৩৫টি অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু চমকও রাখা হয়েছে। শিক্ষিত ও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা এবং তাদের চাহিদার বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে ইশতেহারে।

দেয়া হয়েছে চাকরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার। ইশতেহারে বহুল আলোচিত কোটাব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়েছে-সরকারি চাকরিতে শুধু অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটাব্যবস্থা থাকবে। আর কোনো কোটা থাকবে না।

কিছু দিন আগেও সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটাব্যবস্থা বহাল ছিল। তবে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনের মুখে সরকার কিছু দিন আগে কোটা না রাখার ঘোষণা দেয়।

তবে কোটা বাতিলের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধোয়াশা ছিল। তারা বলছে-তাদের দাবি ছিল কোটা বাতিল করা নয়, কোটার সংস্কার। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।

আরও খবর  দশমিনায় নৌকার প্রচারনায় লিফলেট বিতরনে মাঠে দশমিনা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক

বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে। তারা অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা রেখে বাকি সব কোটা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণার আগে বক্তব্য দেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ও তাদের কর্মসংস্থান, জনগণের চাহিদা এবং একটি ইনক্লুসিভ সমাজ গঠনের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা ও ভাবনাগুলো স্থান পায় ইশতেহারে।

এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে উঠেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। এর পর শুরু হয় ইশতেহার ঘোষণা। ড. কামালের পক্ষে লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

আরও খবর  এক মাশরাফি ছিলো পুরো বাংলার, এখন শুধু নড়াইলের তিন ভাগের এক ভাগের

এর আগে জোটের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং ডিসেম্বরের ৮ তারিখে ইশতেহার ঘোষণার কথা বললেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে বিএনপি থেকে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিকউল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে রাখা হয়।