আগামীকাল ‘চমক’ নিয়ে আসছে ঐক্যফ্রন্ট

131
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

দুই বছরের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নন, নিম্ন আদালতকে উচ্চ আদালতের অধীন এমন কিছু ‘চমক’ নিয়ে আগামীকাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনী এ জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে বেলা ১১টায় ফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন জাতির উদ্দেশে ইশতেহার ঘোষণা করবেন।

এ সময় উপস্থিত থাকবেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির প্রধান আব্দুর রবসহ ফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা।

ইশতেহারে যা থাকছে: এ মাসের শুরুতেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহারের খসড়া করা হয়। পরে নেতাদের সম্মতিতে বেশকিছু পরিবর্তন এনে এশতেহার চূড়ান্ত করে ঐক্যফ্রন্ট।

ফ্রন্ট সূত্র জানায়, খসড়াতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ক্ষমতায় গেলে পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা ও নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের অধীন করা এসব ঠিকই রয়েছে।

আরও খবর  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের হোন্ডা ভাংচুর

এছাড়াও, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সাংসদদের ভোটের ক্ষমতা প্রদান করা, নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান করা, সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা ইত্যাদি থাকছে।

খসড়া ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, মুঠোফোনে ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে অর্ধেক করা হবে। দেশের বিভিন্ন গণজমায়েতের স্থানে ওয়াই-ফাই ফ্রি করে দেয়া হবে। সংখ্যালঘুদের জন্য মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলাগুলোতে শিল্পায়নে লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র এবং অন্যান্য সব সরঞ্জাম কেনা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অন্যান্য বিদেশি সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।

খসড়া ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। শহরে গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবহন নীতি প্রণয়ন করা হবে।

আরও খবর  বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

এছাড়া ক্ষমতায় গেলে নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে। সরকারি পদক্ষেপ এবং সরকারের পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের অধিকার থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সকল গণমাধ্যমের ওপর সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। সাদাপোশাকে গ্রেপ্তার না করার বিধান করা হবে। পুলিশ হেফাজতের নামে শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে।

খসড়া ইশতেহারে আরও উল্লেখ আছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা রাখা হবে না। ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা চালু করা হবে। তিন বছরের মধ্যে সকল সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে পূর্ন স্বাধীনতা দেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান (সরকারি চাকরি আইন-২০১৮) বাতিল করা হবে। ব্যাংকিং খাতে ও শেয়ারবাজারে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর  পটুয়াখালী-৩ আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সিইসির ভাগ্নে শাহজাদা

কৃষক-শ্রমিকদের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সব খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং গার্মেন্টসসহ অন্য সব শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা, কৃষি ভর্তুকি বাড়িয়ে সার বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারের খসড়ায়। বলা হয়েছে, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর জন্য বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মনোনয়নের বিধান করা হবে।