ভিকারুননিসার ছাত্রীদের তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

33
ভিকারুননিসায় তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার পর ওই স্কুলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে যান শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসী নিহত শিক্ষার্থীর বাবা-মার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বেইলী রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন অভিভাবকরা। এ সময় তারা দোষী শিক্ষক ও স্কুলটির অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে সবসময়েই এ ধরণের বাজে আচরণ করে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অরিত্রির মৃত্যুর ঘটনায় যা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো সমাধান মেলেনি।

আরও খবর  ভিকারুননিসার শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্কুলটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বলেন, স্কুলের আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা চাইলে পরীক্ষা দিতে পারে। না দিলে পরীক্ষাটি পরে নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্কুলটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুল ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অরিত্রির বাবা সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী দিলীপ অধিকারী বলেন, রোববার পরীক্ষার হলে অরিত্রি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় তাকে ও তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হয়। তারা সোমবার গিয়ে মেয়ের হয়ে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু তিনি ‘কিছু করার নেই’ জানিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে যেতে বলেন। এরপর তারা প্রিন্সিপালের কাছে গিয়েও ক্ষমা চান। একপর্যায়ে অরিত্রি তার পা ধরে ক্ষমা চায়। তাতেও কাজ হয়নি। প্রিন্সিপাল তাদের অপমানজনক কথাবার্তা বলে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।

আরও খবর  সম্মিলিত মেধাতালিকা প্রকাশ, নিয়োগ আগামী সপ্তাহে

তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনার পর অরিত্রি প্রিন্সিপালের রুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়। তারাও তার পিছু নেন। স্কুল থেকে বের হয়ে মেয়ে একাই একটি রিকশায় তাদের শান্তিনগরের বাসায় চলে আসে। পরে তারা ফিরে দেখেন, নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে অরিত্রির নিথর দেহ। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।