আসাম বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-মুসলিমদের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ করেছে মোদি সরকার।

“টাইমস অব ইন্ডিয়া ” পত্রিকা এক প্রতিবেদনে ৩৮ লাখ অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। অতিসম্প্রতি আসামের “বৈধ নাগরিকদের” একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে”ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নামক বহুল আলোচিত এই তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিলো।সুনির্দিষ্ট সময়ের একদম শেষ পর্যায়ে এসে পাওয়া গিয়েছিলো ১ কোটি ৯০ লাখ বৈধ নাগরিকদের নাম। বিপরীতে আবেদন করেছিলো ৬৮ লাখ পরিবারের ৩ কোটি ৩৫ লাখ বাসিন্দা। এর মধ্যে ২ কোটির তথ্য যাচাই করে প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এই তালিকার কাজ চলছে। আসাম পাবলিক ওয়ার্কার্স নামে একটি সংগঠন প্রদেশের ভোটার তালিকা থেকে ৪১ লাখ “অবৈধ বাংলাদেশির” নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে “জনস্বার্থে ” যে আবেদন করেছিল ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট তা গ্রহণ করে ২০১৪ সালে। আর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নাগরিকদের আবেদন শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে।

আরও খবর  যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১২

১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে এনআরসি তৈরির প্রক্রিয়ায় আসামে নাগরিকদের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। অতএব, যারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পরে আসামে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে বিদেশী(বাংলাদেশী) হিসাবে চিহ্নিত করতেই এই এনআরসি। আসামে “বাংলাদেশী খেদাও” আন্দোলন দীর্ঘদিনের হলেও এ নিয়ে সরকারী-বেসরকারী জোরদার তৎপরতা শুরু হয় ২০১৬ সালে। আসামে বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিলো ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশীদের বের করে দেবে। নরেন্দ্র মোদি যখন নির্বাচনী প্রচারে আসামে আসেন তখনও তিনি জনসভাগুলোতে জোর গলায় আসাম থেকে থেকে বাংলাদেশী খেদানোর অঙ্গীকার করেন। বিজেপি বিপুল ভোটে নির্বাচনে জিতে আসামে সরকার গঠন করলে এনআরসি জরিপ দ্বারা মুসলমান এবং হিন্দু বিদেশী (বাংলাদেশী) তাড়ানোর প্রক্রিয়া আরোও বেগবান হয়।

আরও খবর  মৎস্য ভবন-প্রেসক্লাব মোড়ে ফুটওভার ব্রীজ প্রয়োজন - ঢাবি শিক্ষার্থী

কেন এই ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ। কারণটা বেশ যৌক্তিক এবং সহজ। ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু করে এবং এর সাথে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতে গিয়েছিলো এবং স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশে ফিরে আসেনি তাদেরকেই আসাম সরকার বিদেশী তকমা দিয়ে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা চিন্তা করছে।

আসামে বাংলাদেশী বিরোধী হাওয়া বেশ জোরালো। লক্ষ লক্ষ অসমীয়া বাংলাদেশীদের খেদাতে চায়। যদি বাংলাদেশী বিরোধী অসমীয়া মিয়ানমারের মতো অত্যাচার, নির্যাতন আর গণহত্যা চালায়। এনআরসিতে যাদের নাম নেই তাদের চিহ্নিত করে যদি হয়রানি শুরু করে। প্রাণের ভয়ে, নির্যাতন -হয়রানি-ডিটেনশনের ভয়ে যদি লাখ লাখ মানুষ আবারও কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে যদি মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে এসে উপস্থিত হয় তাহলে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে? বাংলাদেশ সরকার কি তাদের আশ্রয় দিবে? রোহিঙ্গাদের তো কোনো অর্থেই বাংলাদেশী বলা চলে না কিন্তু আসামের এই বিদেশীদের অধিকাংশই তো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। মিয়ানমারের ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের জায়গার সংকুলান দিতে বাংলাদেশ সরকার হিমসিম খাচ্ছে আবার এই ৩৮ লাখ মানুষের জায়গা কোথায়? এক কথায় বলা যায় যে,আসাম সংকটের শেষ কোথায়?

আরও খবর  নাদিয়া মুরাদ: বন্দিশালার যৌনদাসী থেকে নোবেল বিজয়ী

মো.ওসমান গনি শুভ
শিক্ষার্থী, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।