জাতীয় উন্নয়নে নারীর ভুমিকা

76

নারী কেবলমাত্র একটি সত্তার নাম নয় বরং সে একটি চালিকা শক্তি যাকে ছাড়া পৃথিবী স্তব্ধ-স্থবির। সভ্যতা বিনির্মাণে যুগে যুগে পুরুষের পাশাপাশি নারীও অবদান রেখে এসেছে সমান্যাংশে। প্রত্যেক যুগেই নারী তার মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা, শ্রম এবং মমতার সংমিশ্রণে গড়ে তুলেছে ভবিষ্যতের বুনিয়াদ, জন্ম দিয়েছে নতুন ইতিহাসের। জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও নারীর অবদান এককভাবে স্বীকৃত। কিন্তু বিনিময়ে কেবলই অবিচার জুটেছে অবলা নারীর ভাগ্যে।পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কারণে নারীর অধিকারের প্রশ্নে সাংবিধানিক ও আইনগত সমর্থন থাকার পরও আমাদের সমাজে নারীদের অধিকারের ক্ষমতা এখন প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।প্রতিদিনই অসংখ্য নারীর মানবাধিকার হরণ হচেছ। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিকভাবে নারীর নিজের বিকাশ, সমগ্র সমাজের বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, সিমন দ্য বেভোয়ার প্রায় সমস্বরে বলেন,”নারী হয়ে কেউ জন্মায় না,বরং নারী হয়ে উঠে “। সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমে একটি বৈষম্য দর্শন তৈরি করা হয় যা অামাদের কাছে পুরুষতান্ত্রিকতা বা পিতৃতান্ত্রিককতা হিসেবে পরিচিতি। ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় বিভিন্ন সমাজে মানবাধিকার বিশেষ করে নারী অধিকার অাজ চ্যালেন্জর মুখে।এই অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বরে প্যারিস অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার ঘোষণা প্রদান করা হয়।নারীর অধিকার হলো নারীর স্বাধীনতা।

আরও খবর  সচেতন অভিভাবকই পারে সন্তানকে বিপথ থেকে সুপথে আনতে

অার তা হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক, অাইনগত, ব্যক্তিগত,সামাজিক ইত্যাদি ক্ষেএে এই অধিকারকে অস্বীকার করতেও দেখা যায়।নারীর অধিকার মানবাধিকার থেকে ভিন্ন কিছু নয়।মানবাধিকারের বিষয়গুলোই নারীর অধিকারের ক্ষেএে প্রযোজ্য।বাংলাদেশে নারীর অধিকার একটি বহুল অালোচিত বিষয়।অামাদের সংবিধানে ও এর সমর্থন মেলে।সংবিধানের ২৮(২) বলা হয়েছে-রাষ্ঠ ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবেন।কিন্তু এর পরেও নারীদের প্রতি সমাজের বিরুপ মনোভাব এখনো হতাশ ও লজ্জিত হতে হয়।পৃথিবীর অর্ধেক নারী,তাদের বাদ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অামাদের দেশের বেশিরভাগ নারীরা জানে না, অাইনগতভাবে তাদের কী কী অধিকার অাছে।তাই তাদের এসব বিষয়ে প্রচারণা ও সচেতন করতে হবে। নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হওয়ার প্রমাণ রয়েছে অনেক। তারপরেও কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা কম নয়।বাংলাদেশে নারীদের প্রতি সামাজিক একটা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একটি মেয়ে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে সংসার জীবনে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশের অনেক ছোট শহর ও গ্রামে সেই ধারণা এখনো রয়েছে।তবে সময়ের সাথে সাথে সেই দৃষ্টিভঙ্গির যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।

আরও খবর  নিশানরা সুন্দর আর ভালোবাসা দিয়ে বিশ্বজয় করে

তবে অাশার বাণী এই যে, নারীর অধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ Committee on the elimination of all forms of discrimination against women( সিডও)। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশ এ সনদ স্বাক্ষর করে।এবং নানা নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নেপোলিয়ানের বিখ্যাত উক্তি হলো- “অামাকে অাদর্শ মা দাও, অামি তোমাকে অাদর্শ জাতি উপহার দেব”।জাতি গঠনে মায়ের ভুমিকা বলার অপেক্ষায় রাখে না।তাই সমাজে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।রাজনৈতিক ও লোকজীবনে নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসান করতে হবে।শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অন্যান্য ক্ষেএে বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।তাহলে অামাদের এই দেশকে অার উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারব।নারীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশে অাইনের কোন ঘাটতি নেই।তারপরও নির্যাতন বাড়ছেই। অাইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোসহ বিভিন্ন দীর্ঘ মেয়াদী কৌশল ও পদক্ষেপ নিলে নারী নির্যাতনের মাএা কমানো সম্ভব হবে।এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।যাতে করে নারীর অাত্মসম্মান বাড়ে এবং নিজের অধিকারটা বুঝতে পারে।তবে সবার অাগে প্রয়োজন সমাজের মানুষের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে গণঅান্দোলন জোরদার করতে হবে।কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সংবেদনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।মেয়ে ও ছেলেশিশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের পূর্ণ ব্যবস্থা করতে হবে।নারীবান্ধব আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরিকর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হবে।নারীর উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বে আরও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।

আরও খবর  মৎস্য ভবন-প্রেসক্লাব মোড়ে ফুটওভার ব্রীজ প্রয়োজন - ঢাবি শিক্ষার্থী

লেখক: আবু সালেম হোসাইন
শিক্ষার্থী :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়