অস্তিত্বের লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের ধারক : কালচক্র

31

‘বাজানরে,তুমি মইরে যাইও না।আমগে টাকার দরকার নেই,চাকরির দরকার নেই,তুমি ঘরে চলো বাজান ।’বলছিলাম আব্দুলুল্লাহ আল ইমরান রচিত কালচক্র উপন্যাস এর পলাশের বাবা সোলায়মান মিয়ার না খেয়ে দুদিন ধরে অনশন এবং নিজের গায়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে পুত্র পলাশের আর্তনাদ ।কালচক্র উপন্যাসটি মূলত স্বপ্ন দেখা-স্বপ্ন ভাঙ্গার উপন্যাস।দুমুঠো খেয়ে পরে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের উপন্যাস।
উপন্যাসটির বৈশিষ্ট্য হিসেবে যে বিষয় গুলো পাঠকের চোখে পড়বে তার মধ্যে অন্যতম হলো সব ক’টি চরিত্র প্রায় সমান ভূমিকা রেখেছে ।আমরা উপন্যাসে দেখি সাধারণত একটি বা দুটি চরিত্রের ভূমিকা পুরো উপন্যাস জুড়ে ।কিন্তু কালচক্র এ ক্ষেত্রে একদম ব্যতিক্রম।উপন্যাসটি তে অত্যন্ত নিপুন হাতে উঠে এসেছে গ্রাম বাংলার চিত্র, উঠে এসেছে গ্রামীণ মানুষের দুষ্পরিবর্তণীয় চরিত্র।অন্যের বিপদে পাশে থাকা, খোঁজখবর নেয়া,একে অন্যের প্রতি মমত্ববোধ ,গ্রামের কোথায় কি ঘটল এ বিষয় সবার মুখে মুখে থাকা ।তবে অনেক সময় কারো স্বার্থ উদ্ধারেও এমনটি অনেকে রটান তাও আমরা এ উপন্যাসে দেখতে পাই। প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে উপস্থাপন যে কোনো পাঠক কে মুগ্ধ করবে এবং একজন শেষ্ঠ উপন্যাসিক ই কেবল পারেন এভাবে বর্ণনা করতে।অসাধারন শব্দ,বাগধারা এবং উপমা চয়ন যা বইটি পড়া ছাড়া কেউ ভাবতেই পারবেন না বাংলা সাহিত্যে কতটা দখল থাকলে এটি সম্ভব হয়।আর একটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হলো ২০০ পৃষ্ঠার এ উপন্যাসটির শুধুমাত্র ৪০ তম পৃষ্ঠায় “আপনজনদের আভব বুঝতে দেননি একদম”, ৫৫ তম পৃষ্ঠায় “রশির মোল্লা রেগে ওঠে”, ১৯২ পৃষ্ঠায় “এখন তিনি অপেক্ষায় আছেন ফাইনাল চালেন” এ তিনটি বাক্যের আভব শব্দটি অভাব হবে,দ্বিতীয়টিতে রশির মোল্লা বশির মোল্লা হবে এবং তৃতীয়টিতে চালেন শব্দটি চালের হবে ।এছাড়া আর কোথাও কোনো ভুল পাবেন না, যারা লেখালেখি করেন তাদের কাছে সহজেই অনুমেয় হবে বিষয়টি যে কতটা ধৈর্য্য নিয়ে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং লেখার পর কতবার পড়তে হয়েছে লেখাটি লেখকের ।

এবার আসি উপন্যাসের পাতায়, আমরা উপন্যাসটি তে সিরাজ মোল্লাে(একজন চেয়ারম্যান) এবং আমজাদ প্রেসিডেন্ট নামে দুটি চরিত্র দেখতে পাই যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য যে কোনো কিছুই করতে পারেন।নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করতেও ছাড়েন না সিরাজ মোল্লা ।তারা দু’জন ই মূলত সুযোগ সন্ধানী এবং সাধুরূপে লেবাজধারী ভন্ড ।জগলুর দারিদ্রতাকে পূজি করে তাকে দিয়ে চোরাই তেলের ব্যবসা করান আমজাদ প্রেসিডেন্ট ।বিনিময়ে ব্যবসা থেকে ভাগ নেয়ার পাশাপাশি উপন্যাসের শেষ দিকে আমরা দেখতে পাই জগলু যে সময় রাতে জাহাজ থেকে চোরাই তেল আনতে যেতেন তখন আমজাদ জগলুর বউয়ের সাথে মজা নিতেন ।ওদিকে পাটকলের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বিভিন্ন ফন্দি ফিকির আঁটেন,তার প্রতিদ্বন্দী রাজুকে এমন কি দুনিয়া থেকে হটিয়ে দিতে গিয়ে ব্যর্থ হন।কিন্তু ভিন্ন কৌশলে , মিলের বিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনে নামেন আমজাদ।আর পেট বাঁচাতে সেখানে আমজাদের মতলব কেউ না বুঝে যোগ দেন সাধারণ শ্রমিক রা ।অনশন করেন স্লোগান দেন এবং এতে কোনো কাজ না হওয়ায় মিথ্যে মিথ্যে গায়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ভয় দেখানোর পরিকল্পনা নেন।কিন্তু বোকা সোলায়মান সত্যি সত্যি গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন ।আর এতে সরকারের টনক নড়ে শ্রমিকরা তাদের বাকি পড়া বেতন এবং মিলে পুনঃরায় কাজ পান।ওদিকে আমজাদের ও স্বার্থ উদ্ধার হয়।বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।এছাড়া ও তিনি গরীব শ্রমিকদের টাকা ধার দিয়ে কমিশন নেন,প্রভিডেন্ট ফান্ড এর টাকা তুলে দিয়ে কমিশন ,মিলে কাজ না করেও হাজিরা বসিয়ে দিয়ে এভাবে নানা কৌশলে অর্থ সম্পদের মালিক হন | সিরাজ মোল্লা এবং আমজাদ প্রেসিডেন্ট এর সবচেয়ে বড় চক্রান্তের শিকার একটি হিন্দু পরিবার(ঠাকুর পরিবার)।মহুয়া নামের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিবারটিকে অবশেষে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন আমজাদ এবং সিরাজ মোল্লা।দু’জনের ই লোভ ঠাকুর পরিবারকে ভিটে ছাড়া করে সম্পদ দখল ।সিরাজ মোল্লা এক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন যাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।তবে সিরাজের স্বার্থ সিদ্ধি না হলেও এক্ষেত্রেও আমজাদের স্বার্থ স্বিদ্ধি হয়।তিনি সব সম্পদ কিনে নেন কম টাকায়।সিরাজ মোল্লার আর একটি নেতিবাচক ভূমিকা পাওয়া যায় যখন মিষ্টির স্বামী বিষ্ণু তার কাছে টাকা ধার চাইতে আসেন ,তখন তিনি কু প্রস্তাব দেন এবং তাতে বিষ্ণু রাজি হয়ে তার কাছ থেকে টাকা ধার নেন নেশা করার জন্য।ফলে মিষ্টি তার সতীত্ব রক্ষার্থে সিরাজ মোল্লার হাত থেকে বাঁচতে বিষ্ণুকে খুন করে পালিয়ে যান।
মিষ্টি ছিল সদালাপি এবং সবার সাথে স্বদ্ভাব বজায় রেখে চলা একটি সুন্দরী সদাহাস্যজ্জ্বল মেয়ে। যার প্রেমে পড়েন হারুন নামের এক যুবক।কিন্তু মিষ্টি বুঝতে পারলেও কখনো সাড়া দেয়নি তবে তেল বেঁচা টাকায় একবার হারুন কিছু উপহার কিনে মিষ্টির জন্য নিয়ে গেলে মিষ্টির স্বামী বিষ্ণু লম্ফট চরিত্রের অধিকারী সে তাঁর নিজের চরিত্রের সাথে মিলিয়ে নিজের বউকে ভুল বুঝে।এমনকি তাঁর দেহ বিক্রি করে ও খেতে চায় । মিষ্টির এত রূপ যৌবন যা পাড়ার সবাইকে মুগ্ধ করে অথচ বিষ্ণু স্বামী হয়েও কখনো তাকে সময় দেয়নি।সবসময় নেশা আর অন্য মহিলার প্রতি নজর থেকেছে বিষ্ণুর।
আর একটি বিষয় উপন্যাসটিতে লক্ষণীয় ছিল নাজিমউদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ চাকরির অবসরে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে যে টাকা পেয়েছিলেন তা পিলার কিনবেন,অনেক ধনী হবেন এই লোভে সরল বিশ্বাসে টাকা দিয়ে এক প্রতারক দলের চক্রে পরে সব হারিয়ে স্ট্রক করেন।আর তারই এক ছেলের নাম মন্টু যাকে নিয়ে গ্রামে অনেক কেচ্ছা কাহিনী প্রচলিত আছে।এলাকায় কোনো অপরাধ ঘটলে পুলিশ মন্টুকে খোঁজে,গ্রামের মানুষ জন তার নামই বলেন।তাকে সবাই সন্দেহ করেন |তবে মন্টুর বাবার প্রতি রয়েছে গভীর ভালোবাসা | সদা পালিয়ে বেড়ালেও তিনি সুযোগ পেলে বাবার সেবাশুশ্রুষা করেন।তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজেন।সিরাজ মোল্লা এবং আমজাদ প্রেসিডেন্টের মতো মানুষকেও তিনি পরাস্ত করেন।তাদের কে ও ফাঁদে ফেলতে ভুল করেন না |পাশাপাশি আর একটি চরিত্র ছিল মকবুলের, যিনি একজন দোকানদার,সবাইকে বাকি দেন এবং সপ্তাহ শেষে তিনি আবার ফেরত পান বাকি পড়া টাকাগুলো।তার দোকানে পত্রিকা এবং টিভিও আছে যাতে কাষ্টমার বেশি ভিড়ে ।আর এ দোকানে পত্রিকায় সে প্রতারক চক্র কে দেখেই নাজিমউদ্দিন অজ্ঞান হয়েছিলেন এবং মকবুল তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।উপন্যাসের শেষের দিকে মকবুলের দোকানের করুণ পরিণতি দেখা যায় |
নিজের মাতৃভূমি এবং হাতে গড়া অতি যতনে নিজেদের ভিটে-বাড়ি ছেড়ে যেতে কি যে কষ্ট!তা ঠাকুরবাড়ির লোকজন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ,পেয়েছি আমরা পাঠকরা।রাজনৈতিক ফেরে পরে ঠাকুর পরিবারের বিশাল সম্পত্তি কম মূল্যে বিক্রি করে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। সদ্য প্রসূত পলাশ এবং চন্দ্রলেখার প্রেমের মিলন ও অসমাপ্ত থেকে যায় মতলববাজদের জন্য।পলাশ মুসলিম এবং চন্দ্রলেখা হিন্দু পরিবারের সন্তান।কিন্তু দু’জন দু’জনকে ভালোবাসত।তারা ধমীয় বিধি নিষেধের পরোয়া করত না | তবে এ ভালোবাসার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় চন্দ্রলেখার পিসি মহুয়ার আত্মহত্যা।স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় চন্দ্র’র , গৃহবন্দি হয়ে পড়ে চন্দ্রলেখা ।অনেক কষ্টে চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হত পলাশ আর চন্দ্র’র।পলাশ কে চন্দ্রলেখা একবার কলকাতাতে যাওয়ার আবাস দিলেও যাওয়ার আগে পলাশকে না জানিয়েই গভীর রাতে পালিয়ে যেতে হয় তাদের এ দেশ থেকে।
অভাবের এক দারুণ যন্ত্রণা বোধ ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে |অনেক চাওয়া-পাওয়ার অপূর্ণতা যেন এখানকার মানুষের জীবন।এমনকি অভাবের তাড়নায় পলাশের মা কানের দুল পর্যন্ত বিক্রি করে আহারের ব্যবস্থা করেন।এমনকি পলাশের বাবা সোলায়মান মিয়া যে কিনা প্রতি সপ্তাহে হরিহরণ বাউলের কাছে গান শুনতে যাইত,কিছু খরচ করত সেখানে সংসার চালানোর টাকা থেকে।সেও দায়িত্বশীল হয়ে উঠেন, এমনকি পরিবারের অভাববোধের তাড়নায় নিজের গায়ে আগুন পর্যন্ত দিতে দ্বিধাবোধ করেন না শেষ পর্যন্ত | উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে স্বপ্ন দেখা এবং স্বপ্ন ভাঙ্গার অসাধারণ সব গল্প নিয়ে।উপন্যাসিক আবদুল্লাহ আল ইমরান উপন্যাসটির সমাপ্তিও টেনেছেন অসাধারণ এক বাক্য দিয়ে “পলাশ কি জানে পৌষের রাতেরা বড় দীর্ঘ হয়!”
পলাশের পরিবারসহ ভবানিপুর বাসীর অর্থাৎ ভৈরবের পাশ ঘেষে যাদের বসবাস তাদের ‘নয়নতারা’ নামের একটি পাটকল মিলের উপর নির্ভর করে জীবনের চাঁকা ঘুরে এক সপ্তাহ বেতন না পেলে খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।মিলটি নদীতে বিলীন হয়ে স্বর্বস্ব হারানো সোলায়মান মিয়ার মত বহু পরিবারকে যেমন আশ্রয় দিয়েছে ,একত্র করেছে, আবার এ মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে বন্ধনকে ছিন্ন করেছে।হারাতে হয়েছে পলাশের বাল্যবন্ধু রকিব কে যারা আবার বাড়িঘর বিক্রি করে তাদের নিজেদের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন।পলাশ আর রকিবের বয়ে বেড়াতে হয় সে দাপিয়ে বেড়ানো স্মৃতি গুলো, মনে শুধু বিষাদ আর বিষাদ।পরিবারের অভাব অনটনে পলাশ নিজেও বারবার পড়াশুনা বাদ দিয়ে কাজে যুক্ত হতে চায় এবং অবশেষে রাজনৈতিক ফাঁদে পড়ে বাবার চোখ হারানোয় তাকে কাজে যুক্ত হতে হয়। আর এ সকল মানুষের জীবন চক্র এ পাটকলমিল কেন্দ্রিক হলেও শুধুমাত্র মিলের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি উপন্যাসের কলেবর।

আরও খবর  গণরুমের একদিন

উপন্যাসে উল্লেখিত অসাধারণ কিছু উক্তি ঃ

“গরীবের বেদনা উপরওয়ালারা বুঝতে চায় না।” “বোধশক্তিহীন মানুষের বেদনা কম।কিন্তু বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষের বেদনার শেষ নেই।” “কী যে ভীষণ অনিশ্চিত এক মনুষ্য জীবন বয়ে নিয়ে যাই আমরা ,কী যে দীর্ঘ উৎকন্ঠার সেই জীবন !” “মায়া জিনিসটা বাল্যবন্ধুর মতো ।একবার সামনে এসে দাঁড়ালে তাকে আর এড়ানো যায় না ।ভীষণ আবেগে জাপটে ধরতে হয়।” “নাগরদোলায় চড়ে ওপর থেকে নিচে নামার সময় বুকের ভেতর যেমন শূন্যতা তৈরি হয়,বাবার কথা শুনে চন্দ্রলেখারও তেমন এক ভয়ানক শূন্য অনুভূতি হলো।” “একবার আবেগ উঠায়া দিলি পরে,এমন কিছু নাই যা শ্রমিকদের দিয়া করানো সম্ভব না।” “ভেতরে ক্ষোভের আগুন নিয়ে একটা মানুষের সঙ্গে এমন স্বাভাবিক আচরণ করার চেয়ে ভয়াবহ কষ্টের আর কিছু নেই।” “ বহুদূরের অস্পৃশ্য জাগতিক মোহ মায়াতে এতটাই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে যে,খুব কাছের,খুব চেনা মানুষটাই জীবনভর থেকে যায় অচেনা।তুচ্ছাতিতুচ্ছ মানুষেরাও প্রগাঢ় অনুভূতির ছোঁয়া পায়, কিন্তু এক জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষটাই,সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষটাই থেকে যায় হৃদয়ের সব উষ্ণতার বাইরে।” “একসঙ্গে দ্রুততালে চললে জীবনকে বোঝা যায় না,বাঁধা যায় না উপলব্ধির ফ্রেমে।” “তেল ফুরিয়ে আসা হারিকেনের মতো ধীরে ধীরে নিভে আসছে দিনের আলো।” “পৃথিবীর প্রতিটা মেয়েই পুরুষ চোখের ভাষা পড়তে ও বুঝতে পারার অবিশ্বাস্য এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।” “জগতের এমন বহু হিসাবই দিন শেষে মেলে না।বেহিসেবি জীবন হয় কারো কারো!” “জীবনের ক্ষণে ক্ষণে বাঁক বদলায়।খাদের কিনারে দাঁড়িয়েও শেষ মুহূর্তে ফেরার পথ খুঁজে পায় মানুষ,জীবন নেয় আরেক নতুন বাঁক।এই তো জীবন,মায়াবী অদ্ভুত রহস্যে ঘেরা!” “জীবনে সব চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কী মেলে?কিছু হিসাব তো বাকি থেকে যায়!” “আপনজন দেখলে যেমন আলিঙ্গনে কাছে টেনে নেয় মানুষ,মন খারাপেরাও তেমনি এক একেকটা অন্যের সঙ্গে মিলে-মিশে গিয়ে বুকের ভেতর শুরু করে ভাঙচুর।” “বাঁশ পাতার ছায়া গলে আসা জোছনার যেমন ধরতে গেলেই ফুড়ুত করে বেরিয়ে যায় আঙ্গুলের ফোকর গলে, সোলায়মান মিয়ার জীবনেও শান্তি রা মায়াবী এক হাতছানি হয়েই থেকেছে,ধরা দেয়নি কখনো।” “আবেগকে প্রশয় দিতে নেই। আবেগ বড় নাছোড়বান্দা।একবার প্রশয় দিলে সে বাড়তেই থাকবে ,বাড়তেই থাকবে।তখন যাবতীয় যুক্তি,নৈতিকা আর আদর্শ গৌণ হয়ে যায়।মুখ্য হয়ে ওঠে আকুলতামাখা হৃদয়ের ডাক।সেই ডাক থেমে থেমে শুনতে পাচ্ছে মিষ্টি!” “মানুষের জীবন হারানোর জীবন।জন্মের পর থেকেই হারানোর তালিকাটা তাই দীর্ঘ হতে থাকে ।শৈশব হারায়,কৈশোর হারায় ,এমনকি হারিয়ে যায় যৌবন ও।হারায় বাবা-মা,স্বামী-স্ত্রী,কারো কারো সন্তান।একসময় চুল,দাঁত,শেষে চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারায় মানুষ।জীবন থেকে এভাবে একের পর এক সবকিছু হারাতে থাকলেও স্মৃতি কখনো হারায় না।” “সব কিছুর ভাগ দিতে পারলেও স্বামীর ভাগ দিতে পারে না কোনো মেয়ে।” “জীবন আসলে তুমুল অনিশ্চয়তায় ঠাসা,অনিরুদ্ধ সংশয়ে ভরপুর।তবু মানুষের বাসনার কী শেষ আছে?শেষ আছে চাওয়া-পাওয়ার?দিন ফুরালে রাত পেরিয়ে ভোর দেখবে কিনা ঠিক নেই ,অথচ অনাগত বসন্তের স্বপ্নে বিভোর।উন্মাতাল ছুটতে থাকে অলীক স্বপ্নের নেশায়।!”
পরিশেষে বিখ্যাাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে বাধ্য হলাম,“বিষয়কে ধরা,ধরে উপস্থাপন করা,তার জন্য ভাষা ও চরিত্র নির্মাণ এবং এ সবকিছুর মধ্য দিয়ে একটি শিল্পিত অসাধারণ উপন্যাস হলো কালচক্র।”

আরও খবর  প্রজেক্ট বি এর উদ্যোগে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা

লেখকঃ মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ শিক্ষার্থী,
দর্শন বিভাগ ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়