আবেগময় অনুভূতি জীবনের কঠিনতম অঙ্ক…

95

মানুষ মাত্রই আবেগপ্রবণ। হাসি, কান্না, দুঃখ, রাগ, সুখ- এসবই আবেগের অন্তর্ভুক্ত। রাগ, হাসি, কান্নার মধ্যে দিয়ে মানুষটা তার আবেগ প্রকাশ করে। মানুষিকভাবে শক্ত মানুষটা তার মধ্যে চেপে রাখে আর আবেগী মানুষটা যতটা দ্রুত সম্ভব ঝেড়ে ফেলে নিজের মনকে হালকা করে।

গুরুজনরা বলেন যে আবেগী মানুষ মনের দিক থেকে সাধাসিধা আর সরল হয়। ঠিক তার উল্টা হয় শক্ত মানুষটা। তারা মনের দিক থেকে ততটাই কঠিন আর জটিল হয়। তবে শক্ত বা কঠিন যাই হোক না কেন, তারা মনের দিক থেকে ভালোও হতে পারে আবার খারাপ হতে পারে।

এই আবেগ কোন কোন সময় অনেক দূরত্বের সম্পর্ককে কাছে টেনে আনে আর জীবনটাকে প্রানবন্ত এবং উচ্ছ্বল করে তোলে। আবেগ ছাড়া জীবনটা হয় মরুভূমির বালির মতো। আবেগ ছাড়া কোন সম্পর্কই বেশীদিন বেঁচে থাকে না, এক পর্যায়ে গিয়ে দূরত্ব দেখা দেয়। আবেগ একটা সম্পর্কে অক্সিজেনের কাজ করে এবং সম্পর্কে থাকা মানুষ দুজন সুখে থাকে একে অপরের সাথে। যখনই আবেগের ঘাটতি দেখা দেয়, সম্পর্ক হয়ে যায় আই সি ইউ তে শুয়ে থাকা মুমূর্ষু রোগীর মতো। সেই সময়ে সম্পর্কটার অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়ায়- “যায় যায় দিন”!!! মানে যে কয় দিন যায় আর কি!!!

আবার এই আবেগই একটা মানুষটাকে বিভিন্ন জটিল অবস্থায় ফেলে দেয়। আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে সে সবার কাছে খারাপ হয়। কারোর কথা বা কাজে কষ্ট পেয়ে রেগে গিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে গিয়ে নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে ব্যাপারটা রাগ থেকে গড়িয়ে অপমান করার দিকে বেশি ফোকাস পায় তখন। সে সময়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর বাজে কথা বলতেও আমরা পিছপা হই না। যে কোন ভাবেই হোক, তাকে অপমান করে, আজে বাজে কথা বলে তাকে নিচে ফেলতেই হবে!! কিন্ত এমনটা কি হওয়া উচিত? আজেবাজে কথা বললেই কি আমরা জিতে যাব? তাহলে যাকে অপমান করছি, তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

রাগ তো হতেই পারে, সেটা তো ভদ্র ভাষায় আর ঠান্ডা গলায়ও প্রকাশ করা যেতে পারে। ভদ্র ভাষায় আর ঠান্ডা গলায়ও রাগ প্রকাশ করা যায়, তাতে নিজের আবেগও প্রকাশ করা যায় আর এটা কাজে দেয় বেশি। গালি দিয়ে আর চিৎকার করে বাজে কথা বলে শুধু নিজের পরিবার, বাবা-মা আর বংশের পরিচয়ই চিৎকার করে দেয়া হয়। এতে যাকে গালি দিলেন আর বাজে কথা বললেন তার কিছুই হবে না এবং এসব আশেপাশের মানুষ যারা শুনল তারা আপনাকে আর আপনার পরিবার, বংশকেই খারাপ বলবে।

শিক্ষিত হয়ে মুখে আজেবাজে কথা আমাদের মোটেও শোভা দেয় না। শিক্ষিত হয়ে শিক্ষাকেই কৌশলে কাজে লাগাতে হবে। কাউকে কোন ভাল কথা বা কারো কোন প্রশংসা করতে গেলে আমরা বিভিন্ন উপমা-উপসর্গ লাগিয়ে, বিভিন্ন দিক থেকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথাগুলো বলি, তাইনা? ঠিক তেমনি কারোর উপরে রাগ ঝাড়তে গেলে খুবই ভদ্র ভাষায় আর ঠান্ডা গলায় বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে তার সাথে আপনার মতামত দিয়ে আর বিভিন্ন উপযুক্ত যৌক্তিক কথা বলে তাকে বোঝাতে হবে যে সে ভুল করেছে এবং তার ব্যবহারে আপনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন আর রাগ করেছেন। তার সামনে ভুলেও আপনার মানুষিক দূর্বল ভাব প্রকাশ করা যাবেনা, তাতে সে তার ভুল ধরতে পারবে না আর আপনাকে পেয়ে বসবে।

এমনভাবে তার সামনে আপনার রাগটা তুলে ধরতে হবে যাতে করে সে তার ভুল বুঝতে পারে, আপনার সাথে এমনটা আর জীবনেও করবে না বলে আপনার কাছে ক্ষমা চায়, আপনি মানুষিকভাবে শক্ত- এটা যেন অবশ্যই বুঝতে পারে আর শেষে আপনার প্রতি মন থেকে একটা গভীর শ্রদ্ধাবোধ আর নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা, অনুতপ্ত বোধ নিয়ে আপনার সামনে থেকে স্থান ত্যাগ করে। এটা যদি নিশ্চিত করতে পারেন তাহলেই আপনি জিতবেন আর আপনার শিক্ষা, মহানুভবতা এবং আদর্শ ছড়াবে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন সবাই!!!