‘টেলিটক’ কি জিনিস?

88
pic: Google

শিক্ষায় শান্তি,শিক্ষায় প্রগতি,শেখ হাসিনার অঙ্গীকার উন্নয়নের অগ্রগতি।’ ‘নারীর নিরাপত্তা,উন্নয়ন আর অধিকার,রক্ষা করাই শেখ হাসিনার অঙ্গীকার।’ ‘দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া শেখ হাসিনার অঙ্গীকার,সরকারি উদ্যোগই নয় ,সচেতনতা ও দরকার ।’ ‘ধর্মের নামে নয় বিদ্বেষ ,নয় রাজনীতি,ধর্মনিরপেক্ষ দেশই শেখ হাসিনার নীতি।’ ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আওতায় গ্রহীত পদক্ষেপে দেশের শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে ।আসুন নিরক্ষর মুক্ত দেশ গড়ি।’ ‘শিক্ষার বিকাশে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত কল্পে ৬৫ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টি মিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে –সরকারী তথ্যবিবরণী।’ ‘ সহজ ,সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ব্যাংকিং লেনদেন করতে এর মত ডিজিটাল পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন –বাংলাদেশ ব্যাংক।’ ‘কোরবানীর সময় অসতর্কতা বা না জানার কারনে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়।আসুন মানসম্পন্ন ছবি ব্যবহার করে নিয়ম মেনে কোরবানীর পশুর চামড়া ছাড়াই-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।’ ‘কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলে পরিবেশ সুরক্ষা করুন ,ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করুন ।’ পরিবেশ ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।’ রাজধানীর ঝিগাতলায় ছাত্র হত্যা ও ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনার কোনো সত্যতা নেই ।বিষয়টি পুরোপুরি গুজব ।এতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না ।পুলিশকে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’ ‘ জেগেছে যুব গড়বে দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ।-যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ।’

বিগত দিনে টেলিটক সিমে আসা এসএমএস গুলো থেকে কয়েকটি তুলে ধরলাম।টেলিটক ২৯ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ব সিম হিসেবে।এবার আমরা একটি পরিসংখ্যান দেখব ,‘ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত বিটিআরসি এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে চালু থাকা ৪টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ৪১ লাখ ৭৯ হাজার।এর মধ্যে গ্রামীণ ফোনের ৭ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার,রবি এর ৪ কোটি ৬১ লাখ ৩২ হাজার ।বাংলালিংকের ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার। ’

এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে টেেিলটকের গ্রাহক সংখ্যা খুবই নগন্য ।যখন আমি কারো কাছে বলি,আমি টেলিটক ব্যবহার করি । অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন টেলিটক আবার কি? যা সত্যিই বিব্রতকর।এছাড়া সর্বত্র টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না।তাই গ্রামের বাড়িতে গেলে টেলিটকের আর কোনো মূল্য থাকেনা ।নেটওয়ার্ক না থাকায় বন্ধ থাকে সারাক্ষণ।কারো সাথে যোগাযোগ থাকেনা তখন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে।ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ।তাই এ বিষয় টির প্রতি ও গুরুত্ব দেয়া অত্যাবশ্যক । দেশের সকল জনগন চান টেলিটক ব্যবহার করতে ,কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকা ,তেমন প্রচার না থাকার ফলে অনেকেই এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

যদিও টেলিটকের যাত্রা অন্যান্য অপারেটর থেকে কয়েক বছর পরে ।তারপর ও বলব টেলিটক অনেক অনেক পিছিয়ে।যেটা কোনো ভাবেই কাম্য নয় ।যার ফলে আমরা অর্থনৈতিক ভাবেও অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি।আমাদের টাকা চলে যাচ্ছে অন্য অপারেটরে।গ্রাহক একবারে সীমিত হওয়ায় টেলিটক থেকে অতি সামান্য পরিমাণ আয় হচ্ছে |

আমি প্রথম কিছু বার্তা উল্লেখ করেছি ।যেগুলো শুধুমাত্র টেলিটক ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন। যেটা পাচ্ছেন শুধুমাত্র ৩৮ লাখ মানুষ ।যার ফলে অন্যরা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন না এবং গুরুত্বপূর্ন অনেক তথ্যও জানতে পারছেন না।ফলে সরকার-প্রশাসনের প্রতি ও অনেক নেগেটিভ ধারনা থাকছে তাদের ।তাই টেলিটকের প্রতি গুরুত্ব দেয়া এখন সময়ের দাবি ।যারা অপারেটর আছেন , তাদের কে সুযোগ সুবিধা গুলো জানিয়ে দেয়া,সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা,সাধারণ জনগনের দ্বারপ্রান্তে টেলিটককে পৌঁছে দেয়া ,সর্বত্র নেটওয়ার্ক চালু করা অতীব জরুরী।

লেখক ঃ মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ইলিয়াস
শিক্ষার্থী,দর্শন বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আবাসিক শিক্ষার্থী ,স্যার এ.এফ.রহমান হল,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়