নির্বাচন ১৮ ডিসেম্বর না ২০ ডিসেম্বর?

48

আর মাত্র ছয় দিন পরই শুরু হতে চলেছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তফসিল ঘোষণা ও ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন।
নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে ৩১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডেকেছে ইসি। পরদিন ১ নভেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে কমিশন সদস্যরা। এর পর যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি কার্যালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোট গ্রহণের তারিখ হতে পারে ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর অথবা ৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোট নেওয়ার জন্যই দুটি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, আরেকটি ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার পরই এসব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, আপাতত ইসি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত না করে খসড়া একটি তফসিল তৈরি করেছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সিইসি ও কমিশনাররা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কমিশন সদস্যদের সাক্ষাতের পর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ৪ নভেম্বর রোববার কমিশনের বৈঠক হতে পারে। এর পরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের সচিব সাংবাদিকদের বলেন, তফসিল কবে ঘোষণা হবে বা কবে ভোট নেওয়া হবে, এসব নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলোচনা করে এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, ৪ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে কি-না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার ওপর। ইসির সম্ভাব্য প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন না এলে ৪ নভেম্বরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে ১ নভেম্বরই কমিশন সভার নোটিশ জারি হবে।
ইসির নির্বাচন শাখা সূত্র জানায়, এবার তফসিল ঘোষণার পর ৪৫ থেকে ৪৮ দিন হাতে রেখে ভোট নেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ সমীকরণ অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে ২১ ও ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার)। যে কারণে সাপ্তাহিক ছুটির আগে-পরের যে কোনোদিন ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হতে পারে।