অগ্রাধিকার বিহীন সম্পর্ক যেন নিঃশ্বাস বিহীন মানুষ

113

মানুষ স্বভাবশত মাত্রই স্থান দখল করতে পছন্দ করে। সেটা মানুষিকভাবে হোক বা শারীরিকভাবে হোক অথবা চারিত্রিকভাবেই হোক না কেন প্রথম দিককার স্থান তার চাই ই চাই। এই স্বভাবসুলভ আচরণ তাকে অগ্রাধিকার বা প্রায়োরিটি পাওয়ার জন্য তারা দেয়।

যেকোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষ অগ্রাধিকার চায়, সেটা হতে পারে প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বন্ধু, বস্-কর্মচারী, পাড়া-প্রতিবেশী, পিতামাতা-সন্তান ইত্যাদি। সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও ভাগ থাকে। অগ্রাধিকার অনুযায়ী সেই সম্পর্ক গুলোর কোনটা খুব মজবুত এবং জোরালো আর কোনটা ফিকে হয়ে শেষে একেবারে গায়েব হয়ে যায়।

কিছু সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার কাম্য করে ওই সম্পর্কে থাকা মানুষ দুজন, যেমন- প্রিয় বন্ধু আর ভালোবাসার সম্পর্ক। সম্পর্ক যতই কঠিন সময় পার করুক না কেন, সম্পর্ক পালনকারী মানুষ দুজন মনে মনে ঠিকই নিজের অস্তিত্ব আশা করে সেই মুহূর্তে ওই সম্পর্কে। যখনই সে অনুভব করে যে সময়ের সাথে সাথে সেই সম্পর্কে তার অস্তিত্ব আর গুরুত্ব ক্ষীণ হয়ে আসছে, তখন সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। তখন মিল-অমিল, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভালোলাগা-মন্দলাগার ব্যাপারগুলো আগে অগ্রাধিকার না পেলেও গুরুত্বের অস্তিত্ব হ্রাসের সাথে সাথে এগুলো বিশাল একেকটা পাথর হয়ে গুরুত্বহীন মানুষটার অনুভূতি গুলোকে মাটিচাপা দেয়।

একটা সম্পর্ক বা বন্ধুত্বে দূর থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায় না কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা বাড়ার পরে সমস্যাগুলো আরো প্রকট আর পরিষ্কার হতে থাকে। আর তখন অগ্রাধিকারের অভাবে আবেগী মানুষটা সেই সম্পর্কের ইতি টানে আর মানুষিকভাবে শক্ত মানুষটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে অভিনয় করে চালিয়ে নেয় বাকি সময় গুলো।

অভিনয়ের ভারে জীবনটা হয়ে ওঠে দূর্বিসহ। তখন অনেক ছোট বড় জটিল সমীকরণে জীবন চলতে থাকে, হয়ত এর সমাধান কখনোই হবে না। দুজন মানুষ একসাথে একই ছাদের নিচে বহু বছর থেকেও অচেনা অজানা হয়ে থাকে। একটা মানুষকে ঠিক কতটা বছর ধরে চিনলে মানুষটাকে জানা যাবে অথবা মানুষটা কতখানি ত্যাগ স্বীকার করলে অগ্রাধিকার পাবে? এর কোন সঠিক পরিসংখ্যান কি কারো জানা আছে? পৃথিবীর সর্বস্রেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানীও এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে না।

আত্মসম্মানবোধই মানুষকে তার অগ্রাধিকার আদায়ে মানুষিকভাবে তারা দেয়। এটা এমন একটা বোধ যা থাকলে অাশেপাশের মানুষ মনে করে অহংকারী আর না থাকলে মানুষটা হয়ে যায় ব্যাক্তিত্বহীন। আপনার ভালোলাগা, মন্দলাগা আর অগ্রাধিকার যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটার কাছে ওঠানামা করে, তখনই আপনার আত্মার অর্ধেক মৃত্যু হয়ে যায়। আত্মার সমাপ্তির সাথে সাথে মানুষটিও মানুষিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায় শুধু একটা কথা ভাবতে ভাবতে- “আর কত স্যাকরিফাইজ করলে আমার ভালোবাসার মানুষটি আমাকে প্রায়োরিটি দিবে আর ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিবে!!!!”