আসুন নজর পাল্টাই এবং পাল্টে দেই সমাজ

155

ঊহহু!! ভার্চুয়ালের টিপটপ, পরিপাটি আর স্মার্ট মেয়েদের দেখেন তারা কিন্তু বাস্তবে মোটেও অমন নাহ! কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের ভ্রুতে দ্রুত লোম উঠে, চুলার পাশে গরম ধোঁয়ার বিষম খেয়ে মুখটা মলিন কালশিটে হয়ে থাকে! দায়িত্ব রেখে পার্লারে যাওয়ার সময় কই? ফিটফাট ড্রেসে যাদের দেখছেন তার আড়ালে শরীরে কতইনা দাগ! কোনটা নির্যাতনের, কোনটা ছোট্ট ছোট্ট গুটি বসন্ত, কোনটা আঁচিলের কিংবা কোনটা কারও উপর অভিমানে ব্লেডের আঁচড়ে রক্তক্ষরণের শুকিয়ে যাওয়া পুরোনো দাঁগ!

কেউই ২৪ ঘন্টা মুখে ৪ইঞ্চি. প্যানকেকের আর চোখে রঙ্গীন আইশ্যাডোর ছোঁয়াতে থাকেনা! যে কাজল কালো চোখটা দেখে আপনার বুকে উথালপাথাল ঝড় উঠতেছে, সে চোখ কিন্তু সারাক্ষন কাজলে আচ্ছন্ন থাকেনা! বাসায় ফিরে কাজল ঠিকই উঠাতে হয়! ঐ যে সিল্কি চুল হাত বুলাচ্ছেন ঐ চুলটাও তেলে-পানিতে ভিজে চুপসে থাকে!

মেয়েটার পায়ের যে হাই হিল জুতাটা ক্লাসি বলে প্রশংসা করছেন সেই জুতার প্রতি ইঞ্চির ব্যাথা ঠিকই সে হেসে সহ্য করে আর ভাবে কখন বাসায় গিয়ে নরম স্যান্ডেল পড়বে! টাইট ড্রেসে মোড়ানো যে শরীরের প্রশংসা করছেন সেই শরীরের মেয়েটা কখন বাসায় ফিরে সেই ব্রিটিশ আমলের পুরোনো আরামের টিশার্ট গায়ে চাপিয়ে দুনিয়ার শান্তি পাবে সেই চিন্তায় ছটফট করে ভিতরে ভিতরে!

একটা মেয়ের শরীরে যেকোন দাগ, কাঁটাছেড়া, স্ট্রেচ মার্ক কিংবা যেকোন স্পট থাকুক না কেন, তাকে কেন এই ভয়ে চলতে হবে যেন সঙ্গী পুরুষটা তারই মেকাপময় সৌন্দর্যের জালে আটকে থাকে কিংবা দাগহীন শরীরকেই বেশি পছন্দ করে? কেন একটা মেয়েকে সারাক্ষন নিজেকে আকর্ষণীয় রাখার প্রয়াস চালাতে হবে?

দুনিয়াতে সবার জন্ম যখন সাধারণ ভাবেই হয় তাহলে সাধারণভাবেই মেয়েটাকে তার সঙ্গী কেন মেনে নিতে পারেনা? বাইরের যে স্মার্ট মেয়েটাকে দেখে ভালোলাগার ঢেউ আপনার মনে খেলে যায় আর ঘরে ফিরে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে দেখে নিরানন্দ মুখে পাশ ফিরে যান, আপনি কি একবারও ভাবেননা যে আপনার জন্য কতটাই না যত্নে টেবিল সাজিয়ে মেয়েটা আপনার অপেক্ষায় টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে শুধুমাত্র একসাথে খাবে বলে!

শুধুমাত্র আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মটাকে সুস্থ্য আর সুন্দরভাবে পৃথিবীতে আনার জন্য সে শরীরে যখন নয়টা মাস আপনারই বংশধরকে ধারণ করে আর নিজের জীবনের পরোয়াও করেনা তখন তো আপনার উচিত তার জন্য গোটা দুনিয়া তুলে তার হাতে ধরিয়ে দেয়া! তবুও যদি আপনার নজরে পড়ত আপনার পছন্দের ডিশ রাঁধতে গিয়ে তার হাতের পরতে পরতে অসংখ্য যন্ত্রণার কাঁটা ছেড়া দাগ, আঁচড় আর ফোস্কা!

ভালোবাসার চোখে তাকালে বুঝবেন ঐ যন্ত্রণার পিছনে পাঁচমিশালি ভালোবাসার উপাখ্যান ঠিকই মিশে আছে শুধু আপনার তৃপ্ত মুখখানা দেখতে! একটু কি ভেবে দেখেছেন কখনও? যদি না ভাবেন তাহলে নেক্সট টাইম একটু ভেবে দেখবেন, কেমন? আপনার একটা হাসি মুখই পারে আপনার অর্ধাঙ্গিনীর সব কষ্ট দূরে ঠেলে ফেলে দিতে।

রুপ সজ্জাময় উপরের চেহারা তো মাত্র ক্ষনিকের পর্দা। কিন্তু রুপ সজ্জাহীন ভিতরের মলিন চেহারার ভিতরে একটি কোমল হৃদয় আছে, যে হৃদয়টি সারাদিন সংসার ধর্ম পালন করে ঠিকই কিন্তু মনে মনে স্বামীর স্বংগ আর ভালোবাসা কামনা করে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হলো পবিত্র সম্পর্ক। এখানে মন খুলে ভালোবাসার অনুমতি আছে, কোন বাধা নিষেধ নেই। কিন্তু স্ত্রী ব্যতীত অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক হলো নাযায়েয আর এটাই করতে আগ্রহী হন অনেক মানুষ।

বেশি জায়গায় নজর না দিয়ে এক জায়গায় নজর দিলে মন খুলে যেমন ভালোবাসা যাবে, তেমনি ভালোবাসার মানুষটাকে গভীরভাবে বুঝা যাবে, এতে সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং জীবন ঝন্ঝাট, ঝামেলা মুক্ত থাকবে।