বাংলাদেশী চিকিৎসকের সাফল্যে বাঁচছে হাজারও শিশুর প্রাণ

Spread the love

পৃথিবী যখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে, সেসময় বাংলাদেশের সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে ড. মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি হঠাত মেডিকেলে পরার সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কারণ তার চোখের সামনে শিশুরা মারা যাচ্ছিল কিন্তু তিনি কিছুই করতে পারছিলেন না।

গল্পটা ১৯৯৬ সালের। শিশু বিভাগ নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুতে ভর্তি। প্রায় ২০ জন শিশুর অবস্থা গুরুতর যাদের মাঝে ৩ জন নিউমোনিয়ার কাছে হেরে যায়। ডাক্তারদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও সবকিছু যেন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল। শুধু সিলেট নয়, বাংলাদেশে সেসময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ২৪%। সেসময়ই ডা. চিশতী সিদ্ধান্ত নেন শিশু বিশেষজ্ঞ হওয়ার।

২০০২ সালে ড. চিশতী ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোল বাংলাদেশ -এ মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং যথেষ্ট ঔষধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেখানে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর উচ্চ হার লক্ষ্য করেন।

আরও খবর  ঢাবিতে 'বৃহন্নলা, এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পরবর্তীতে ড. চিশতী অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রয়েল চিলড্রেন হসপিটাল থেকে শিশুরোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১২ সালে তিনি পুনরায় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোল বাংলাদেশ-এ যোগদান করেন। এখনো পর্যন্ত নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর হার উচ্চই রয়ে গেছে। ড. চিশতী তখন এমন কিছু চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন যা শিশুমৃত্যু রোধ করবে পাশাপাশি সবার ক্রয়ক্ষমতা ও সর্বত্র সহজলভ্য হবে।

২০১২ সাল, নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের মাঝে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন ড. চিশতী। শ্যাম্পুর বোতলে পানি ভরে তার সাথে একটি প্লাস্টিক টিউব যুক্ত করেন। নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু অক্সিজেন ট্যাংক থেকে অক্সিজেন নিয়ে, টিউবের মাধ্যমে শ্বাস ছাড়লে তা শ্যাম্পুর বোতলে বুদবুদ সৃষ্টি করে।

আরও খবর  পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল জয় তিন বিজ্ঞানীর।

আশ্চর্যজনকভাবে গুরুতর অবস্থায় থাকা কিছু শিশু এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর কয়েক ঘন্টার মাঝে সুস্থতার লক্ষণ দেখাতে শুরু করে।

পরবর্তী ২ বছরে নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুর হার লক্ষ্যনীয় ভাবে কমে যায় এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করে।

২০১৫ সালে এ আবিষ্কারের কথা জার্নালে ছাপা হয়, ইথিওপিয়া, মায়ানমার, নেপাল এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এমনকি WHO এ চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। কার্যকরী, সহজলভ্য ও সর্বোপরি সকল শ্রেণীর মানুষের সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় নিউমোনিয়া চিকিৎসায় এ পদ্ধতি অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত স্থান এনে দেবে এমনটাই বিশ্বাস ড.চিশতীর।

Recommended For You