নাদিয়া মুরাদ: বন্দিশালার যৌনদাসী থেকে নোবেল বিজয়ী

Spread the love

সাফল্যের গল্পগুলো আমাদের সবার প্রিয়। কিন্তু সফলতার পেছনের সংগ্রামগুলো কখনো কখনো আমাদের অজানাই রয়ে যায়। কিংবা সফলতার গল্পগুলো যেভাবে আমাদের আকৃষ্ট করে, পেছনের গল্পগুলো জানার আগ্রহ হয়তো সেভাবে আমাদের টানে না।

কিছুদিন আগে ঘোষিত হল ২০১৮ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম। এবছর যৌথভাবে এ পুরষ্কার অর্জন করেছেন ডেনিস মুকোয়েজ এবং নাদিয়া মুরাদ। যুদ্ধে যৌন সহিংসতা বন্ধে কাজ করার জন্য এ পুরষ্কার অর্জন করেছেন তারা। কিন্তু নাদিয়া মুরাদ স্বয়ং এমন অন্যায়ের শিকার!

১৯৯৩ সালে ইরাকের কোজো শহরে ইয়াজিদি গোত্রে জন্ম নেয় নাদিয়া। তার পরিবার ছিল সাধারণ কৃষিজীবী পরিবার। ২০১৪ সালে আই এস যোদ্ধারা কোজো গ্রামের ইয়াজিদি গোত্রের প্রায় ৬০০ মানুষকে হত্যা করে যাদের মাঝে নাদিয়ার ৬ ভাই এবং মা ও রয়েছে। হত্যার পর তাদের গণকবরে কবর দেয়া হয় এবং নাদিয়া সহ তার বয়সী অন্যান্য মেয়েদের দাসী হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন মানুষের কাছে হাতবদল হতে থাকে তারা। কখনো কোনো সৈন্যশিবির কখনো কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি। আর সেসব জায়গায় তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ধর্ষণ, মার কি করা হয়নি সেখানে তাদের।

আরও খবর  "প্রাসাদের মুকুট" আজ ভারতের মুকুট!!

আটকের তিনমাস পর পালানোর সুযোগ পায় নাদিয়া। তাকে আটকে রাখা ব্যক্তি অসাবধানতাবশত বাড়ির সামনের দরজা খুলে রেখে যাওয়ায় সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় নাদিয়া। প্রতিবেশী এক পরিবারে গিয়ে আশ্রয় চাইলে পরিবারটি জীবনের মায়া ত্যাগ করে নাদিয়াকে আশ্রয় দিতে সম্মত হয়। এরপর বাড়ির মালিকের স্ত্রীর ছদ্মবেশে আই এস এর অধিনস্ত অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নাদিয়া এবং এ পুরো যাত্রা পথে তাকে সাহায্য করে তাকে আশ্রয়দাতা ব্যক্তি। নাদিয়াকে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে আই এস অধিনস্ত এলাকা থেকে নিরাপদে বের করে দেন তিনি। নাদিয়া একটি রিফিউজি ক্যাম্পে থাকতে শুরু করে।

২০১৫ সালে আরও ১০০০ মহিলা ও শিশুর সাথে জার্মানি যাওয়ার সুযোগ পায় নাদিয়া।

আরও খবর  দশমিনায় নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান, আটক ১৭

২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর নাদিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মানুষ কেনাবেচার বিষয়টি অবহিত করে যা জাতিসংঘের কাছে ছিল একদম নতুন। জাতিসংঘ নাদিয়াকে মানুষ কেনাবেচা ও গণহত্যার বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘের দূত হিসেবে নিযুক্ত করে। পরবর্তীতে আই এসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নাদিয়া সাহায্য করে যা তার জীবনের হুমকি ডেকে আনে।

২০১৭ সালে নাদিয়ার আত্বজীবনী “দ্য লাস্ট গার্ল: মাই স্টোরি অফ ক্যাপটিভিটি, এন্ড মাই ফাইট এগেইনস্ট দ্য ইসলামিক স্টেট” প্রকাশিত হয়।

২০১৮ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার ছাড়াও ২০১৬ সালে শাকাহরব পুরষ্কার অর্জন করে নাদিয়া মুরাদ।

Recommended For You