মো:মামুন রেজা, ধামরাই : নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীর বাল্যবিবাহ করিয়ে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে ইমাম। ঢাকার ধামরাইয়ের নান্নার ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে বিয়ে পড়িয়ে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে ইমাম রফিকুল। রঘুনাথপুর গ্রামের জামসেদ আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ও একই গ্রামের আব্বাস আলীর মেয়ে আসমা আক্তার জলসীন এলোকেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তারা একে অপরকে ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে গত সোমবার উভয়ের পরিবারসহ গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির হোসেন, এলাকার মাতবর আব্দুর রউফসহ সালিশে শতাধিক লোক উপস্থিত হন।
সালিশ বৈঠকে মেয়ের বয়স ১৮ ও ছেলের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোন বিয়ে হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাতবরদের কথা না শুনে মৌখিকভাবে আট লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে কাবিন রেজিস্ট্রি ছাড়াই গোপনে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় কান্দকাউলি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলামকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর রাতেই ইমাম রফিকুল ইসলাম এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান।
বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে উপস্থিতি টের পেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ও আসমা আক্তারকে বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়। জাহাঙ্গীর আলম আকাশের মা ছমিরন নেছা ও আসমা আক্তারের মা রোজিনা বেগম মৌখিকভাবে আট লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে কাবিন রেজিষ্ট্রি ছাড়াই কান্দকাউলি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে তাদের অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েকে বিয়ে পড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, তারা একে অপরকে ভালোবাসে তাই বিয়ে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির হোসেন ও মাতবর আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের কথা অমান্য করে তাদের বাল্যবিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ইমাম রফিকুল ইসলামও রাতেই এলাকা থেকে পালিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।
স্থানীয় আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকেই জানান, এ গ্রামে গত দুই মাসে পাঁচটি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বাল্যবিবাহ রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও খবর  চিকিৎসকের অভাবে ভেঙে পরছে স্বাস্থসেবা