সড়ক দুর্ঘটনা একটি অভিশাপ; না আমাদের তৈরি?

Spread the love

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিষয় এবং আতংকের নাম হলো সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলে একটি দুশ্চিন্তা মাথায় ভর করে যে বাসায় সুস্থভাবে ফিরতে পারবো কিনা! গণপরিবহনগুলোর দৌরাত্ম্য আর অমানবিকতার জন্য প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে নিজের জীবন বলি দিতে হচ্ছে! ফিটনেস বিহীন গাড়ি আর অদহ্ম চালকদের হাতে আমাদের জীবন আজ জিম্মি।

দেশে সড়ক আইন থাকলেও সেগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অদহ্ম চালকরা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতার নমুনা দেখাচ্ছে রাজপথে। কোটি মানুষের কোটি চোখ থাকলেও এসব অরাজকতা চিরতরে বন্ধ করার সাধ্য কারো নেই। আমার প্রশ্ন হলো রাস্তায় একটি গাড়ি আরেকটির সাথে পাল্লা দিয়ে কি সোনার মেডেল নাকি অস্কার জিতবে? উত্তর যদি না হয় তাহলে একটি অচেনা গাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে জিতে নিজের গাড়ির যাত্রীদের জীবন ঝুঁকি তে ফেলে পাপ কুড়ানোর কি কোন যৌক্তিকতা আছে? এহ্মেত্রে গাড়ির মালিকদের করণীয় আছে শতভাগ। ১০০% যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চালকদের নিয়োগ দিলে সড়ক দুর্ঘটনা ৬০% কমানো সম্ভব।

এরপরে পথচারীদের “নিজের জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশি”, এই কথা মাথায় রেখে সচেতন ভাবে সড়ক আইন মেনে পথ চললে বাকি ২০% দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। এছাড়াও সড়ক নির্মাণ কৌশল ও ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে মেনে চললে বাকি ২০% প্রাণহানি ও কমিয়ে ০% এ নিয়ে আসা সম্ভব। মনে রাখতে হবে যে সড়ক দুর্ঘটনা কোন দৈব ঘটনা নয়। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাদের সচেতনতা, নিয়ম কানুন মানা ও দেশের সম্পদ রহ্মা করার মন মানসিকতার উপর। আমরা এসব মানিনা বলেই প্রতিদিনই মানুষ তার প্রিয়জনকে চিরতরে হারাচ্ছে অথবা কেউ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

আরও খবর  দশমিনায় নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান, আটক ১৭

“জন্মিলে মরিতে হবে” এটা চিরাচরিত সত্য কথা কিন্তু অকাল মৃত্যু কারো কাম্য নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবার যেমন তার প্রিয়জনকে হারাচ্ছে তেমনি দেশ আর্থিকভাবে হ্মতিগ্রস্থ হচ্ছে আবার দেশের সম্পদ ও মানুষদের রহ্মা করার মন মানসিকতা লোপ পাচ্ছে। আমাদের সকলের সহযোগিতা আর সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনার মতো অভিশাপ থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতে।

পোস্ট কন্টিবিউটর
শেখ আনিকা আফসারী

Recommended For You